কৃষিসুজানগর

মাঠে মাঠে ‘লাল সোনা’: সুজানগরে পেঁয়াজ উত্তোলনের মহোৎসব

পাবনার সুজানগর উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন কেবলই পেঁয়াজের ঘ্রাণ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা যাচ্ছে পেঁয়াজ উত্তোলন, বাছাই আর বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা। স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনা’ হিসেবে পরিচিত এই ফসলের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে, আর মাঠগুলো সেজেছে এক উৎসবের রঙে।

মাঠজুড়ে কর্মব্যস্ততা

সরেজমিনে সুজানগরের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কৃষক-কিষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরবরাহকৃত ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মাঠের পর মাঠ পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বড়দের পাশাপাশি পরিবারের ছোট সদস্যরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেঁয়াজ তোলায় হাত লাগাচ্ছে। কেউ জমি থেকে পেঁয়াজ উপড়ে তুলছেন, কেউবা সেই পেঁয়াজ ঝুড়িতে ভরে একত্রিত করছেন।

নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

পেঁয়াজ পরিচ্ছন্ন ও বাজারজাতকরণে স্থানীয় নারীদের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। ছবিগুলোতে দেখা যায়, গ্রামের নারীরা দলবেঁধে বসে পেঁয়াজের সবুজ পাতা কেটে আলাদা করছেন এবং আকার অনুযায়ী বাছাই করছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পাইকারি বাজারের বিশাল স্তূপ

মাঠ থেকে তোলা পেঁয়াজ স্থানীয় ভটভটি ও ট্রাকে করে নিয়ে আসা হচ্ছে পাইকারি বাজারে। বাজারের চিত্রটি আরও চমকপ্রদ। দেখা গেছে, পাহাড়ের মতো উঁচু করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে সদ্য তোলা লাল টকটকে পেঁয়াজ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে নাভিশ্বাস উঠছে শ্রমিকদের, তবে ফসলের প্রাচুর্য তাদের সেই ক্লান্তি ভুলিয়ে দিচ্ছে।

দেশজুড়ে সরবরাহের প্রস্তুতি

সুজানগরের পেঁয়াজ মানেই সারা দেশের মানুষের জন্য বড় এক আশার নাম। বাজারে দেখা গেছে হাজার হাজার বস্তা পেঁয়াজ ট্রাকে লোড করার অপেক্ষায়। এখান থেকেই এই পেঁয়াজ রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আড়তে পৌঁছে যাবে। ট্রাকের দীর্ঘ সারি আর শত শত বস্তার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এবার পেঁয়াজের সরবরাহ বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।

কৃষকের প্রত্যাশা

ফলন ভালো হলেও কৃষকদের একমাত্র দাবি ন্যায্যমূল্য। স্থানীয় এক কৃষক জানান, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের মান খুব ভালো হয়েছে। যদি সঠিক দাম পাওয়া যায়, তবে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে আমরা লাভের মুখ দেখতে পারব।”

সুজানগরের এই পেঁয়াজ উৎসব কেবল কৃষির উন্নয়নই নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল অবদান রেখে চলেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button