৭২ বছর বয়সে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ায় রওশন আলীকে সংবর্ধনা প্রদান

৭২ বছর বয়সে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ায় রওশন আলীকে সংবর্ধনা প্রদান

৭২ বছর বয়সে স্থানীয় শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ রওশন আলী মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ায় গৌরব অর্জন করায় সুজানগর কাঁচারিপাড়া ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর(মাস্টার্স) এম এস এস পরীক্ষার সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পেয়ে মোঃ রওশন আলী ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন।

৭২ বছর বয়সে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ায় রওশন আলীকে সংবর্ধনা প্রদান

কাঁচারীপাড়া ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা পরবর্তী সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের সর্বপ্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সুজানগর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আব্দুস সামাদ।

৭২ বছর বয়সে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ায় রওশন আলীকে সংবর্ধনা প্রদান

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চরতারাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন বিশ্বাস ও সুজানগর আদর্শ ক্লাবের সভাপতি মকবুল হোসেন বেগু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বলেন এই বয়সে এসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করাটা একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের রওশন আলীর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলে জানান তিনি।

৭২ বছর বয়সে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ায় রওশন আলীকে সংবর্ধনা প্রদান

শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবর্ধিত রওশন আলী তার বক্তব্যে বলেন জীবনে সফল হতে প্রত্যেকের পড়াশুনা সম্পূর্ণ করা উচিত। জ্ঞান থাকলে তবেই সফল হওয়া যায়। শিক্ষা জীবনে সাফল্য আনার পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাঁচারীপাড়া ক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও ক্রীড়া সংগঠক রাজা হাসান, এটিএম শামছুজ্জামান ডন, সিরাজুল ইসলাম সেলিম, ফারুক-ই আজম, নূর-এ আলম রতন, সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ ফুল, যুগ্ন সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেদুল হাসান জন, জায়দুল হক জনি, প্রচার সম্পাদক শাহীন হাসান, সহ-প্রচার সম্পাদক রাকিবুল হাসান জাদু, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ রানা, সহ দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আলম, অর্থ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, সহ অর্থ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন মিন্টু, সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হাসান সবুজ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন হিমেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রুবেল হাসান, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পাভেল মাহমুদ, গবেষণা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন হিরা সহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য জীবনের শেষ বয়সে এসেও লেখাপড়া করে এমন সাফল্য অর্জন রীতিমতো সকলকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন রওশন আলী। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধাকালীন কোর্সের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের বান্নাইপাড়া গ্রামে।

১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করার পর সুজানগরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রতিষ্ঠিত শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন।

পরবর্তীতে সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন। এরপর ইচ্ছা থাকার পরও কর্মজীবনে আর পড়াশুনা করতে পারেন নাই তিনি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরগ্রহন করলেও পড়াশুনা সম্পূর্র্ণ না করতে পারার কষ্টটা রয়ে যায় তার। এমন সময় সিদ্ধান্ত নেন এম এ পাশ করবেনই তিনি।

মূলত সেই ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। তার ২ ছেলে। এর মধ্যে বড় ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা সম্পূর্ণ করে বর্তমানে পাবনা পদ্মা কলেজের বাংলা বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেব কর্মরত আছেন । এবং ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন একটি কলেজ থেকে পড়াশুনা সম্পূর্ণ করে পাবনা হোমিওপ্যাথিক কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!