স্রষ্টার সন্তুষ্টিই রাজক্ষমতার উৎস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায়

“স্রষ্টার সন্তুষ্টিই রাজক্ষমতার উৎস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায়”


ইসলামের ইতিহাস, ইসলাম আগমনের পূর্ব হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারতবর্ষের ইতিহাস, বিভিন্ন দেশের ইতিহাস নির্ভর জ্ঞানগর্ভ, সাহিত্য ও মহাপবিত্র কুরআন-হাদিস অধ্যয়নের মাধ্যমে কোন জাতির শান্তি, সম্মৃদ্ধি ও রাজক্ষমতা অর্জনের উপায় সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান যা আমি এখানে বর্ণনা করতে যাচ্ছি।
এ বর্ণনার দুর্বলতা ও ক্রটি সমূহ সংশোধনের ইচ্ছায় জ্ঞানী-গুণী ও বিজ্ঞজনের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।

(১) সকল মানুষের মনে এ বিশ্বাস জন্মানো উচিৎ যে, রাজ্য ও রাজত্ব দান করা ও তা কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার।

(২) পৃথিবীর বড় বড় সম্প্রদায় ও প্রতাবশালী রাজা-বাদশাদের ইতিহাস এর জীবন্ত সাক্ষ্য।

(৩) এই দান করা ও তা কেড়ে নেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি বিধান নির্ধারিত করে দিয়েছেন আর যাকে সুন্নাহতুল্লাহ বলা যায়।

(৪) আল্লাহ তাআলার সুন্নাহ হল এই যে কোন সম্প্রদায় বা জাতি শাসন ক্ষমতা দুই ভাবে লাভ করে।

(৫) প্রথমত কোন সম্প্রদায় বা জাতি আল্লাহ তাআলার উত্তারাধিকারের ভিত্তিতে শাসন ক্ষমতা লাভ করে।
দ্বিতীয়ত তারা তা লাভ করে পার্থিব কার্যাবলীর মাধ্যমে।
অর্থাৎ হেকমত ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা তা লাভ করে।

(৬) প্রথমত তখনই কোন সম্প্রদায় বা জাতিকে উত্তারাধিকারের ভিত্তিতে শাসন ক্ষমতা দান করা হয় যখন তাদের আকিদা ও আমলের মাধ্যমে তাদের উপর আল্লাহ তাআলার উত্তারাধিকারিত্ব কার্যকরী হয়।
তখন সে সম্প্রদায় বা জাতি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার সেই পুরষ্কারের যোগ্য হয়। যাকে আল্লাহ তাআলার খেলাফত নামে অভিহিত করা হয়। (২৪ঃ সূরা নূর-৫৫)

(৭) আল্লাহ তাআলা বলেন, কোন সম্প্রদায় বা জাতির মধ্যে এ যোগ্যতাটুকু না থাকলে, তবে সে সম্প্রদায় বা জাতি ইসলামের দাবীদার হলেও জমিনের উত্তরাধিকারিত্ব তাদের ভাগ্যে হতে পারে না।
আর আল্লাহ তাআলার প্রতিনিধিত্ব তাদের প্রাপ্য হক হতে পারে না। তাদের নিরাপত্তা ও ইজ্জতের জন্য আল্লাহ তাআলার কোন ওয়াদা নাই। (৬ঃ সূরা আনআম-৮২)।


(৮) আল্লাহ তাআলার উত্তারাধিকারের ভিত্তিতে শাসন ক্ষমতা দান করার মত ঈমানদার জনগোষ্টির অভাব হলে আল্লাহ তাআলাহ তখন তাঁর দ্বিতীয় বিধান পার্থিব কার্যাবলী অর্থাৎ হেকমতের ভিত্তিতে কোন যোগ্যতা সম্পন্ন জনগোষ্টিকে শাসন ক্ষমতা দান করেন। (৭ঃ সূরা আরাফ-১২৮, ২১ঃ সূরা আম্বিয়া-১০৫)।


(৯) আল্লাহ তআলার উত্তারাধিকারের ভিত্তিতে রাজত্ব প্রাপ্ত হয়েছিলেন হযরত আদম (আঃ), হযরত শীশ (আঃ), হযরত ইব্রাহিম (আঃ), হযরত ইউসুফ (আঃ), হযরত মুসা (আঃ), হযরত দাউদ (আঃ), হযরত সোলায়মান (আঃ), শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। আর তাঁর তীরোধামের পর আল্লাহ তাআলার উত্তারাধিকারের ভিত্তিতে খেলাফত প্রাপ্ত হন তাঁর চারজন প্রধান সাহাবা। তাঁরা হলেন- হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ), হযরত ওসমান (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ)।


(১০) তাঁদের তীরোধানের পর আল্লাহ তাআলার উত্তারাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত খেলাফত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য জনবল না থাকায় আল্লাহ তাআলার দ্বিতীয় বিধান পার্থিব কার্যাবলী অর্থাৎ হেকমতের ভিত্তিতে শাসন ক্ষমতা হস্তান্তরিত হতে থাকে এবং রসূল (সঃ) এর ভবিষৎ বাণী অনুযায়ী খেলাফত ব্যবস্থার অবসান ঘটে আর শুরু হয় রাজতন্ত্র।


(১১) ২১ঃ সূরা আম্বিয়ার-১০৫ আয়াতে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, ”আমার যোগ্যতা সম্পন্ন বান্দাগণ পৃথিবীর অধিকারী হবে।”


(১২) এই যোগ্যতা সম্পন্ন বান্দাদের মধ্যে যারা তাঁর সৃষ্টি সকল মাখলুকের প্রতি অধিক দয়ালু, তাদের ব্যাথা-বেদনা, সুখ-শান্তি অনুভব করে এবং সর্বদা তাদের কল্যাণ করে, যারা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি অন্যদের চেয়ে অধিক নিরপেক্ষ, যারা পৃথিবীতে ধংস অপেক্ষা অধিক গঠন করে।
এই সমস্ত যোগ্যতা ও গুণের কারণে আল্লাহ তাআলাহ তাদের প্রতি সদ্বয় হয়ে তাদেরকে পৃথিবীর অধিকারী করবেন।


(১৩) আর যতদিন পৃথিবীর কোন সম্প্রদায় বা জাতি উত্তম যোগ্যতা ও গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে শাসক গোষ্ঠিকে অতিক্রম করতে না পারবে ততদিন হয়তোবা আল্লাহ তাআলাহ এই শাসক গোষ্ঠিকেই পৃথিবীর অধিকারী রাখবেন।


(১৪) তাই শাসক গোষ্ঠির প্রতি আবেদন তারা যেন বিবিধ উত্তম যোগ্যতা ও গুণাবলী অর্জনে প্রতিযোগিতায় সব গোষ্ঠির বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে স্রষ্টার সন্তুষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতায় আশীন থেকে দেশ জাতি এবং বিশ্ব কল্যাণে নিজেদের নিয়েজিত রাখেন।


(১৫) ৫ঃ সূরা মায়িদা-৬৪ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে আল্লাহ তাআলা ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্তদেরকে ভালবাসেন না। তাই ক্ষমতার বাইরে থাকা বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির প্রতি আবেদন তারা যদি শাসন ক্ষমতায় যেতে চান তবে তারা যেন কোন ধ্বংসাত্মক কাজ ও বিশৃংখলায় লিপ্ত না হন। বরং তারা যেন গঠনমূলক কাজ এবং বিবিধ যোগ্যতা ও গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে শাসক গোষ্ঠিকে অতিক্রম করে আল্লাহ তাআলার অধিক থেকে অধিক সন্তুষ্টি অর্জন করেন।
কেননা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া শাসন ক্ষমতায় যাওয়ার বিকল্প দ্বিতীয় কোন রাস্তা নাই।


(১৬) ৭ঃ সূরা আরাফ-৯৬ আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলার ঘোষণা “সেই সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ যদি বিশ্বাস স্থাপন করত ও সৎকর্মশীল হত তবে আমি তাদের জন্য আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণের দরজা সমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।
তাই বিশ্বের শাসক গোষ্ঠি এবং শাসন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির প্রতি আকুল আবেদন, আসুন সবাই মিলে মিশে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি, সৎকর্ম করি, তাঁর পছন্দনীয় যোগ্যতা ও গুণাবলী অর্জন করি আর এভাবে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করি। যাতে তিনি আমাদের জন্য আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কল্যানের দরজা সমূহ খুলে দেন আর আমরা দেশ, জাতি ও বিশ্ব কল্যাণে নিয়েজিত হয়ে কল্যাণময় ও শান্তিময় বিশ্ব সমাজ গড়তে পারি।


সমাজকর্মে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আমি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা ও সমাধানের উপায় সম্পর্কে বিজ্ঞ শিক্ষকগণের কাছে থেকে যে জ্ঞান অর্জন করেছি তা প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তি, দল ও জাতির সমস্যা সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টা, যা নিবেদন করছি শাসক গোষ্ঠি ও শাসন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠির প্রতি।

(মুহাঃ রওশন আলী)

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!