সুজানগর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত

সুজানগর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত

সুজানগর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে ১৫ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় সুজানগর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সুজানগর থেকে প্রকাশিত একমাত্র পত্রিকা সাপ্তাহিক পল্লীগ্রামের সম্পাদক এবং প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবীন সাংবাদিক আব্দুস শুকুর, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মাহে আলম, কার্যনিবাহী সদস্য আব্দুল বাছেত বাচ্চু, আলাউদ্দিন আলাল, সুজানগর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, সুজানগর প্রেসক্লাবের কল্যাণ সম্পাদক শ্রী বিজন কুমার পাল ও সদস্য ফিরোজ রানা প্রমুখ।

শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে প্রবীন সাংবাদিক ও কবি আব্দুস শুকুর বলেন বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু এক-অবিচ্ছেদ্য। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেয়া এক শিশু তরুণ বয়স থেকেই বাঙালি জাতির স্বাধীকার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষা জীবন ও রাজনীতি চলে পাশাপাশি। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে জড়িয়ে ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭০ সহ বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর দ্বার হতে বারবার ফিরে এসেছিলেন তিনি। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্ব এবং লাখো শহীদের রক্তে বিনিময় আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। আজ বঙ্গবন্ধু নেই রয়েছে তার প্রজ্ঞার স্বাক্ষর। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পুরোধা পুরুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল বাছেত বাচ্চু বলেন পঁচাত্তর পরবর্তীতে জাতির জনককে হত্যার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ছিল তিমিরাচ্ছন্ন। দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব গ্রহণ করে অনির্বাচিত সরকার। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে আশ্রয়-প্রশ্রয় পায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়। এমনকি বঙ্গবন্ধু যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন তাদেরও নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ‘৭২-এর সংবিধান সংশোধন করে চার-মূলনীতি পরিবর্তন ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে সহায়তা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ১৫ আগস্টে জাতির জনকের সপরিবারে হত্যাই সব ভয়াবহতা ছাড়িয়ে গেছে। সেদিন দুগ্ধপোষ্য শিশু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, প্রতিবন্ধী কেউই রেহাই পায়নি। আর হত্যাকান্ডে খুনিদের শান্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে হয়েছে। এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে বলেও জানান তিনি।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী তার বক্তব্যে বলেন বঙ্গবন্ধুই বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি বিদেশের কারাগারে বন্দি থাকলেও তার নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। যে আখাঙ্খা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, মাত্র ৫ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে সেই পথ থেকে সরে আসে এদেশ। ফলে দীর্ঘ পরিক্রমায় এখনও অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে তাঁর আদর্শের সরকারকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা সহ দেশ এবং জাতির উদ্দেশ্যে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!