সুজানগর পৌর আ.লীগ নেতার উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুজানগর পৌর আ.লীগ নেতার উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুজানগর পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ রজব আলীর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় পৌর কার্যালয়ের সামনে সুজানগর-নাজিরগঞ্জ সড়কের পাশে পৌর আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন। শেষে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রাজা হাসান, পৌর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মসলেম উদ্দিন (মুছা), উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ, পৌর আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পাসু সরদার, পৌর আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, জায়দুল হক জনি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল প্রমুখ।

বক্তরা পৌর আওয়ামীলীগ নেতা রজব আলীর উপর সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি জানান। উল্লেখ্য এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌরসভার কারিকরপাড়া (একেনের মোড়) এলাকা থেকে পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য রজব আলীকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

এ ঘটনায় আহত রজব আলীর ভাই আল আমিন বাদী হয়ে বুধবার থানায় মামলা করার পরপরই থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে বলে জানান ওসি বদরুদ্দোজা। থানা পুলিশ জানায় গত কয়েক মাস আগে থেকেই স্থানীয় পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিনের সাথে রজব আলীর বিরোধ চলে আসছে।

আর ঘটনার সুত্রপাত ঘটে গত ১৩-২-২০২০ তারিখে হেলাল উদ্দিনের জামাই মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হোসেন তার শশুরবাড়ী গোকুলপুর যাবার পথে রজব আলী তাকে মারধর করার মধ্যে দিয়ে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় এঘটনায় ১৪-২-২০২০ তারিখে এক পক্ষে মোঃ বিল্লাল শেখ বাদী হয়ে এবং অপর পক্ষের আব্দুল বারেক বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-৫ ও ৬।

এরপর গত ১৫ জুন পৌর প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিনকে রজব আলী সহ তার পক্ষের লোকজন পিটিয়ে মারাত্বক আহত করে।এ ঘটনায় ১৬ জুন আবারো উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে। এ দুটি মামলার একপক্ষের বাদী হন সোহেল রানা এবং অপর পক্ষের মামলার বাদী হন শহিদ প্রাং।যাহার মামলা নম্বরও যথাক্রমে ৫ ও ৬।

এরপর ৩ মাস পর গত মঙ্গলবার রাতে রজব আলীকে কুপিয়ে জখম করার মধ্যে দিয়ে আবারো ঘটলো উভয়পক্ষের মধ্যে নৃশংস এ ঘটনা। স্থানীয় এলাকাবাসী দুই পক্ষের মধ্যে কিছুদিন পরপরই এ ধরণের ঘটনা ঘটার জন্য পুলিশ ও কিছু রাজনৈতিক নেতাকে অনেকটা দায়ী করে তারা জানান প্রথম ঘটনা ঘটার পর থেকেই পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা যদি দ্রুত সময়ে সঠিক পদক্ষেপটা নিত তাহলে পরে আর এ ধরণের ঘটনা ঘটতো না।

তাই এখনো সময় আছে এলাকার সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঠিক সিদ্ধান্তটা নেওয়ার। আর তা না হলে পরবর্তীতে আরো অনেক বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!