সুজানগরে বাল্যবিবাহের দায়ে কাজী জাহাঙ্গীরের কারাদন্ড

সুজানগরে বাল্যবিবাহের দায়ে কাজী জাহাঙ্গীরের কারাদন্ড

সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের ফুলালদুলিয়া গ্রামে ব্যল্যবিবাহ রেজিস্ট্রির চেষ্টাকালে কাজি জাহাঙ্গীর হোসেন খান কে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। জাহাঙ্গীর হোসেন খান তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী ও সুজানগর উপজেলা কাজী সমিতির সভাপতি।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রওশন আলী বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ২০১৭-এর ৬ ধারায় এই আদেশ দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে বুধবার বিকালে পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলামের এর সাথে সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের ফুলালদুলিয়া গ্রামের রায়হান আলীর মেয়ে সমা খাতুনের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।

খবর পেয়ে ইউএনও রওশন আলী কয়েকজন পুলিশ নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে যান ও বিয়ে বন্ধ করে দেন। টের পেয়ে এ সময় কনে ও তার মা-বাবা এবং বর সহ বরযাত্রীরা পালিয়ে যায়। তবে বিয়ের কাজি জাহাঙ্গীর হোসেন কে আটক করে পুলিশ। এ সময় কাজির কাছে থাকা অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রির বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়। ইউএনও রওশন আলী বলেন বর মনিরুলের সাথে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটির বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। বরপক্ষ বিকালে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয় ।

এলাকাবাসীর কাছে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় কনের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে কাজি তার অপরাধ স্বীকার করে নেন। ইউএনও আরো বলেন সুজানগর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায় মেয়েটি স্থানীয় জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এবং জন্ম সনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৫ বছর।

ইউনিয়নের কাজী বাল্যবিবাহ অপরাধ জানার পরও বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কাজ করছিলেন। আর এই বাল্য বিয়ে বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কাজির সাজা হওয়ায় অন্য অভিভাবকেরা সচেতন হবেন বলে মন্তব্য করেন তারা। সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ বদরুদ্দোজা জানান ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক কাজি জাহাঙ্গীর হোসেন খান কে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করায় সাজাপ্রাপ্ত কাজিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!