সুজানগরে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় কমছে দাম, হতাশ কৃষক

সুজানগরে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় কমছে দাম, হতাশ কৃষক

দেশের উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী পাবনার সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ। তবে নায্য দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ায় হতাশ এ অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষীরা।

বর্তমানে সুজানগর পৌর হাট সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ব্যাপক পেঁয়াজ আমদানি হতে শুরু করেছে। রবিবার (২১ মার্চ) সুজানগর পৌর হাটে গিয়ে দেখা যায় মানভেদে মৌসুমি এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আটশত টাকা থেকে নয়শত টাকা মণ দরে । যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে তেরশত থেকে পনের শত টাকা মণ দরে। সুজানগর উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানাযায় গত বছর সুজানগরে ১৬ হাজার দুইশত হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হলেও এবারে এই উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার সাতশত হেক্টর জমিতে ।

অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক সময়ে সার বীজ দিতে পারায় কৃষকেরা প্রতি বিঘা জমি থেকে ৭০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ এবারে ঘরে তুলছে। পৌর হাটে রবিবার পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা দূর্গাপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষী রেজা মন্ডল বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদন করতে প্রতি বিঘায় তাদের শ্রমিক,সার,বিষ ও দানা সহ যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে আর বর্তমানে তারা যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তাতে ব্যাপক লোকসান হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম সর্বনিম্ন যদি মণ প্রতি তেরশত টাকা হয় তাহলে কৃষক তাদের খরচের টাকাটা অন্তত ঘরে তুলতে পারবে বলেও জানান তিনি।

পেঁয়াজ চাষী কামরুজ্জামান বলেন আমি প্রায় ৯২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি, কিন্তু বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম তাতে উৎপাদন খরচ না উঠায় চিন্তায় রয়েছি। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হারুন মন্ডল জানান, এই উপজেলার বৃহত্তর গাজনার বিলে যেহেতু সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে তাই বিলের পার্শ্ববর্তী চিনাখড়া, বোনকোলা, দুলাই, শ্যমগঞ্জ ও পৌর হাট-বাজারেই সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আমদানি হয়ে থাকে।আর সুজানগরের এই পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কেনার জন্য এখানে এসে থাকেন।

সুজানগর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবীন সাংবাদিক আব্দুস শুকুর বলেন, উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ সুজানগরে উৎপাদন হলেও এই পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই।তাই কৃষকেরা যাতে তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখতে পারে সে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ময়নুল হক সরকার জানান, নতুন মৌসুমি এ পেঁয়াজ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করায় এখন থেকে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম আরো কিছুটা কমবে । এছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে উপজেলার সকল মাঠ থেকে পুরোদমে কৃষকেরা পেঁয়াজ তোলা শুরু করবে ।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!