সুজানগরে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

সুজানগরে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিল হিসাবে পরিচিত সুজানগর উপজেলার গাজনার বিল সহ এই উপজেলার বেশিরভাগ ফসলি জমিতে নতুন চারা পেঁয়াজ রোপন শুরু করেছেন কৃষকেরা । সুজানগর উপজেলার কৃষকদের কাছে এই পেঁয়াজই অন্যতম প্রধান অর্থকারী ফসল এবং এটি তারা জমিতে রোপন করবে আগামী জানুয়ারী মাস জুড়ে ।

কিন্তু বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের সাধারণ কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে। বছরের অন্যান্য সময় যেখানে জন প্রতি ৪০০-৫০০টাকায় দিন মজুর পাওয়া যেত,বর্তমানে সেখানে ৬০০-৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায় এবারে এই উপজেলায় ১৬হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে নতুন এ পেঁয়াজের চারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে । তবে এবারে কৃষকেরা বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপন করায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে গাজনার বিলে গিয়ে দেখাযায় এই চারা পেঁয়াজ রোপন করতে দিন মুজুর হিসাবে কাজ করছে এই উপজেলার গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্ররা। দিনমুজুর হিসাবে পেঁয়াজের চারা রোপন করতে আসা উপজেলার বোনকোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র রাসেল হোসেন বলেন বর্তমানে বিদ্যালয় বন্ধ তাই বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করে সংসারে সচ্ছলতার আনার জন্য তিনি এ কাজ করছেন।

উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র লতিফ হোসেন বলেন তাদের মতো আরো অনেক ছাত্রই দিনপ্রতি বর্তমানে ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করে এবং দিনে দুইবেলা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে দিনমুজুর হিসাবে এই পেঁয়াজের চারা রোপন করে থাকেন।

নাজিরগঞ্জ কলেজের মতিন নামে অন্য এক কলেজ ছাত্র বলেন গতবার তিনি পেঁয়াজ রোপনের মৌসুমে ১২হাজার ৫শত টাকা রোজগার করেছিলেন আর এবারের মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পারবেন বলে জানান ।

আর এই রোজগারকৃত টাকা দিয়ে এবারে একটি ভাল মোবাইল ফোন,বই ও জামা কাপড় কিনবেন বলে জানান।উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রেজাউল করিম রেজা মন্ডল বলেন এবারে তিনি কয়েক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপন করবেন আর ইতিমধ্যে ২ বিঘা জমিতে রোপন করেছেন । তিনি আরো জানান প্রতি বিঘা জমিতে এই পেঁয়াজের চারা রোপন করতে ১৬ থেকে ২০ জন দিনমুজুর হিসাবে কাজ করে থাকেন ।

কিন্তু এবারে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়া বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। । মজিদ নামে অন্য আরেকজন কৃষক বলেন এই পেঁয়াজ রোপনের মৌসুমে রংপুর,বগুড়া,লালমনিরহাট সহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ দিনমুজুর হিসাবে এই পেঁয়াজের চারা রোপন কাজের জন্য এসে থাকেন ।

নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাদের হোসেন বলেন এই পেঁয়াজ লাগানোর মৌসুম আসলেই উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের অসংখ্য ছাত্ররা দিনমুজুর হিসাবে কাজ করে থাকে । সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন এই সময়ে সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা মাঠে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার ময়নুল হক সরকার জানান সঠিক ভাবে রোপন, পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের মত এবারেও এই উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে ।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!