সুজানগরের শিক্ষক আহম্মদ আলী ছিলেন অন্ধকার পথের আলোকবর্তিকা

সুজানগরের শিক্ষক আহম্মদ আলী ছিলেন অন্ধকার পথের আলোকবর্তিকা

মানুষের মুত্যু হয় কিন্তু শিক্ষকেরও কি মৃত্যু হয়? আমার মনে হয় না , ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু শিক্ষক বেঁচে থাকে তাঁর অগনীত ছাত্র-ছাত্রীদের মনের মাঝে, কর্মের মাঝে, কৃতিত্বের মাঝে, সফলতার মাঝে। শিক্ষক মানে মূলত জীবনের পথ প্রদর্শক, অন্ধকার পথের আলোকবর্তিকা। ঠিক সে অর্থেই আহম্মদ আলী স্যার ছিলেন অন্ধকারের আলোকবর্তিকাই।

৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) প্রিয় শিক্ষক আহম্মদ আলীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মহিলা কলেজর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী এবং সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী আরো বলেন, স্যার ছিলেন এমনি একজন, যাঁকে ভালবাসায়, স্মৃতিতে, স্মরণে, আদর্র্শে ধারন করেই পথ চলছি, চলবো তার গর্বিত ছাত্র হয়ে।

অপর ছাত্র সুজানগর এন এ কলেজর অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন আহম্মদ আলী স্যার ছিলেন একজন সত্যিকারের শিক্ষক, যিনি দলমতের উর্ধ্বে থেকে আমৃত্যু, সত্য, সুন্দর, প্রগতি ও আলোকিত সমাজ বির্নিমার্ণে কাজ করে গেছেন। স্যার ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনেও খুবই বিনয়ী, সফল এবং আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। স্যারের সন্তানেরা বর্তমানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। স

সুজানগর হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কাশিনাথপুর শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ শ্রী তরিত কুমার কুন্ডু বলেন আহম্মদ আলী স্যার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি তার সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম, ত্যাগের মহিমা ও নৈতিকতার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজগতে অমরত্বের বীজ বপন করে গেছেন।

শিক্ষক আহম্মদ আলীর সন্তান স্থানীয় মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস্ সুজানগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জর্জ বলেন আমরা জানি প্রত্যেক জীবনকেই মৃত্যুকে বরন করতে হবে। এবং মৃত্যু চিরন্তন। তবে কিছু মৃত্যুর মৃত্যু হয়না, শুধু দেহটাই হয়তো আড়াল হয়। আমার পিতার মৃত্যুটাও শুধু দেহ থেকে প্রাণ ত্যাগ করেছে। কিন্তু তার কর্ম, তাঁর শিক্ষা, তাঁর আদর্শ দেশে-বিদেশে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পদে, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে স্মৃতি থাকে-থাকবে বলে জানান তিনি।

আহম্মদ আলী উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের রাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম যোগদানের মধ্যে দিয়ে শিক্সকতা পেশা শুরু করেন। এরপর পাবনা সদর উপজেলার ভাউডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুজানগর সরকারি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকে অসুস্থতাজনিত কারণে ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহন করেন। মানবতা ও আলোর ফেরিওয়ালা এই কীর্তিমান পুরুষ ১৯৯৬ সালের ৬ অক্টোবর অগণিত শুভাকাঙ্খি, শিক্ষার্থী ও আপনজনকে ছেড়ে এই পৃথীবী থেকে বিদায় নেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে রেখে গেছেন। শিক্ষক আহম্মদ আলীর আরেক সন্তান সাদুল্লাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান তার পিতার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন তার কবর জিয়ারত এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে নিজ গ্রামের বাড়ী সুজানগর পৌরসভার মানিকদীরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!