ড্রেজার বিকল করা হয়েছে

সুজানগরের পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান, আটক-৩

সুজানগরের পদ্মা নদীতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১১টি ড্রেজার বিকল করা হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ ব্যক্তিকে আটক করা হয় । গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী জেলার ওরাকান্দা এলাকার স্বপন হোসেন (২৮), ফরিদপুর জেলার গুরুদিয়া এলাকার মোঃ ওমর আলী (৪৫) ও বোয়ালমারী গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩০)।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রওশন আলী। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, মানিকহাট ও সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের পদ্মায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রওশন আলীর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বায়েজীদ বিন আখন্দ ও মোঃ নাজমুস সাদাত রত্ন সহ নৌ পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় সরকারিভাবে বালু উত্তোলন নিষেধ থাকলেও একশ্রেনীর অসাধু বালু ব্যবসায়ী সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবাধে এ বালু উত্তোলন করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কোথাও বালুর ইজারা নেই।

কিন্ত আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করছে এবং রাস্তার পাশে রেখে তা বিক্রি করছে। উল্লেখ্য বালু মহাল এবং মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না। ওই আইনের (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লেখ রয়েছে ড্রেজিং কার্যক্রমে বাল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাইবে না। এবং সর্বোপরি এভাবে বালু উত্তোলন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে।

এছাড়া নদী থেকে এভাবে অবৈধপন্থায় বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্য করলে সেই ব্যক্তি বা তাদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তির অনূর্ধ্ব ২ বৎসর কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা হতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন বলেও বলা হয়েছে।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রওশন আলী জানান অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!