ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে ভেস্তে গেছে সুজানগরে প্রায় ৬ কোটি টাকার সুপেয় পানি প্রকল্প

ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে ভেস্তে গেছে সুজানগরে প্রায় ৬ কোটি টাকার সুপেয় পানি প্রকল্প

আসেনিকমুক্ত সুপেয় পানি ও নিস্কাশন ব্যবস্থায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় হলেও বিগত ৫ বছরে এর কোন সুফল পাচ্ছে না সুজানগর পৌরবাসী। ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পটি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সরকার সুজানগর পৌরসভার আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০১০-১১ অর্থ বছরে পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প হাতে নেয়।এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে ভেস্তে গেছে সুজানগরে প্রায় ৬ কোটি টাকার সুপেয় পানি প্রকল্প | সুজানগর.কম

এই প্রকল্পের আওতায় সুজানগর পৌর এলাকায় ২০০মিঃমিঃ ব্যাসের ১.১০ কিঃমিঃ, ১৫০ মিঃমিঃ ব্যাসের ৪.৪২ কিঃমিঃ, ১০০ মিঃমিঃ ২৩.৯৮ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, উৎপাদক নলকূপ ০৫টি, পাম্প ঘর ৫টি, পাম্প ও মোটর ক্রয় ৫টি, সারফেস ড্রেন ৫ কিলোমিটার, ডাস্টবিন ১২টি, পাবলিক টয়লেট ০৪টি, তারা নলকূপ স্থাপন ৩০টি, অটো ভোল্টেজ রেগুলেটর ক্রয় ০৫টি, ২টি কম্পিউটার ও ১৪২৫টি বাড়িতে পানির মিটার সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্তÍ হয়।

পাবনার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমান এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হন। এ প্রকল্পের পিডি নিজেই টেন্ডার আহ্বানকারী ও বিল পরিশোধকারী হওয়ায় তিনি তৎকালীন সুজানগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুনর রশীদ ও পছন্দের পাবনার ঠিকাদারকে দিয়ে যেনতেনভাবে ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছেন।

তিনি তার স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক অনিময়ের দুর্নীতির মাধ্যমে যেনতেনভাবে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করেন বলে অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। নিম্ন মানের পাইপ দিয়ে পানির লাইন বসানোর কারণে পানি ছাড়ার সাথে সাথে তা ফেটে চৌচির হওয়ায় নির্মাণের পর থেকে পৌর এলাকায় পানি সরবারাহ বন্ধ রয়েছে। ডিপ টিউবয়েল গুলো বসানোর পর থেকে অকেজো হয়ে আছে।

এমনকি পাম্প ঘর নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত চরভবানীপুর এলাকার পাম্প ঘর সহ ২টি পাম্প ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও পাম্প ঘরে বিদ্যুৎতের মাধ্যমে পাম্প ও মোটর সচল দেখিয়ে এবং প্রকল্পের অন্যান্য কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১৫ সালের জুন মাসের ২৯ তারিখের মধ্যেই ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয় অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি পৌরবাসীর কোন উপকারেই আসছেনা।

এ বিষয়ে সুজানগর পৌরসভার পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ৫ তারিখে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে প্রকল্পটিতে ব্যবহার করা সকল পাইপ লাইনে নিম্ন মানের পাইপ ব্যবহার করার কারণে নলকুপ ও পাম্প হাউজ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে এর সত্যতা মেলায় ২০১৯ সালের মার্চ মাসের ১৪ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবু নাছের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পৌরসভায় আসেনিকমুক্ত সুপেয় পানি ও নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনা ২ বছর পার হলেও তা খাতা কলমেই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

পৌরসভা সুত্রে জানাযায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরবাসীর আসেনিকমুক্ত সুপেয় পানির কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত করা হয়নি। অথচ ৫জন পাম্প চালক ও ১জন মেকানিক্স এর বেতন, বিদ্যুৎ বিল সহ অন্যান্য খরচ বাবদ ২০ লক্ষাধিক টাকা পৌরসভা থেকে প্রদান করতে হচ্ছে প্রতিবছর। পাম্প চালক নাজিম উদ্দিন সোহেল জানান, পাম্প চালু করার সাথে সাথেই পাইপ ফেটে চৌচির হয়ে যায়।

তাই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় পানির পাইপ লাইন বসানো হলেও জনসাধারণের পানি সরবরাহ কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছেনা। সুজানগর পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম রেজা জানান, গত ২৭ এপ্রিল নতুন মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই এই প্রকল্পের বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছিনা। খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

সুজানগর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম পৌরসভার আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ চালু না হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী জামানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজ হোসেন জানান জানান, পৌরসভার মেয়রের সাথে আলোচনা করে এ ব্যাপারে প্রজোনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে সুপেয় পানি বঞ্চিত সুজানগর পৌর এলাকার বাসিন্দারা এ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!