Faruk Hasan

সুজানগর ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জল নক্ষত্রের চির বিদায়

পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে পরিবার, আত্বীয় স্বজন, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সুজানগরের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সদাহাস্যেজ্জল, বিনয়ী ও সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব ফারুক হাসান
তিনি বুধবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় হৃদযত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নাল্লিহে………রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ১ মেয়ে, পিতা, চার ভাই, একবোন, আত্মীয় স্বজন সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সুজানগর ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জল নক্ষত্রের চির বিদায় | Sujanagar
এদিন সকালেই তার মৃত্যুর খবর সুজানগরে ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, আত্বীয় স্বজন, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ও তার হাতে গড়ে উঠা ক্রীড়া জগতের সহযোদ্ধা সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ফারুক হাসান শুধু একজন ক্রীড়া সংগঠকই ছিলেন না তিনি ছিলেন সুজানগর আদর্শ ক্লাবের অন্যতম সদস্য, সুজানগর কাঁচারীপাড়া ক্লাবের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, একজন সাংস্কৃতিক কর্মী ও কবি। বহু প্রতিভা ও গুণের অধিকারী ফারুক হাসানের মৃত্যুতেই তাইতো সুজানগরের ছোট, বড় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ শোকে স্তদ্ধ ।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা রুহের মাগফেরাত কামনা করা সহ তার পরিবারের প্রতি জানাচ্ছেন গভীর সমবেদনা।
সুদূর আমেরিকা থেকে তার শৈশব জীবনের এক বন্ধু সুব্রত মজুমদার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন কত কথা, কত স্মৃতি, এক সঙ্গে কত আড্ডা, শৈশবে একই সঙ্গে সেই সে সুজানগর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছিল লেখাপড়ায় হাতে খরি! এসব কিছুকেই একটা ফ্রেমে বন্দী করে তোর এই অসময়ে চলে যাওয়ার আকস্মিক খবরে আমি রীতিমত স্তম্ভিত এবং শোকাহত! হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ শুরু হলো তা হয়তো চলতে থাকবে আমৃত ওপারে গিয়ে ভাল থাকিস বন্ধু। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি উনি যেন তোকে স্বর্গবাসী করেন।
সুজানগর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুন আহমেদ তার ফেসবুকে লিখেছেন ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়, আমাদের সবার প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন ফারুক ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। অত্যন্ত  বিনয়ী অমায়িক প্রকৃতির একজন সাচ্চা ভদ্রলোক ছিলেন তিনি। ব্যক্তি জিবনে তিনি সর্বদা আবাল বৃদ্ধ শিশু প্রত্যেকটি মানুষের সঙ্গেই আন্তরিক ছিলেন। মানুষে মানুষে বিভেদ, বৈষম্যের উর্দ্ধেই তিনি থাকতেন। ক্রীড়াঙ্গনে তার অসামান্য অবদানের জন্য সুজানগরের ক্রীড়াঙ্গন তার কাছে আজীবন ঋণী থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত নসীব করুন এই দোয়া করি।
ফারুক হাসানের অপর বন্ধু সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী জানান ক্রীড়াঙ্গন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফারুক হাসান যে অবদান রেখে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে স্মরণে রাখবে এ জনপদের মানুষ। সুজানগরের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান,আনিছুর রহমান ও সুজন অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান ফারুক হাসান ছিলেন তাদের প্রিয় একজন অভিভাবক, তাকে আর কোনদিনই চিরচেনা কাঁচারীপাড়া ফুটবল মাঠে দেখতে পারবোনা এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। শুধু কাঁচারীপাড়া মাঠই নয় তার পদচারণা ছিল দেশের বিভিন্ন খেলার মাঠে। খেলাধুলার পাশাপাশি নিজ হাতে দায়িত্ব পালন করতেন রেফারীরও। খেলাধুলার প্রশিক্ষণ দিতেন আগ্রহী কিশোর ও যুবকদের।
সুজানগর পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার বন্দে আলীর মেঝ ছেলে ফারুক হাসান। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে রাজা হাসান বড়, ফারুক হাসান ছিল মেঝ, বিপ্লব হাসান সেজো আর তাদের ছোট দুই ভাই বাবু হাসান ও রাসেল হাসান বর্তমানে সৌদিতেই অবস্থান করছেন। ফারুক হাসান ১৯৮৬ সালে সুজানগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সুজানগর নিজাম উদ্দিন আজগর আলী কলেজ থেকে এইচ এসসি এবং পাবনা সরকারি এডওর্য়াড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স পাশ করার পরপরই ১৯৯৩ সালের দিকে সৌদি আরবে চলে যান। তবে সৌদি আরবে থাকলেও দুই বছর পরপর আবার অনেক সময় বছরে একবার হলেও প্রিয় মাতৃভূমিতে এসে প্রিয় খেলার মাঠ সহ সর্ব শ্রেণীর মানুষদের সাথে সময় কাঁটাতেন।
ফারুক হাসানের ভাই বিপ্লব হাসান এ প্রতিনিধিকে বুধবার সন্ধ্যায় জানান  ইতিমধ্যে সৌদি পুলিশ প্রশাসন হাসপাতালের ডাক্তারি সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করে ফারুক হাসানের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে। সে দেশের অন্যান্য সরকারি সকল প্রক্রিয়া শেষ করে হয়ত অতি দ্রুতই মরদেহ দেশে আনতে পারবো ইনশআল্লাহ।
এদিকে ফারুক হাসানের  মৃত্যুতে পাবনা-২ আসনের এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির, সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাব, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল কাদের রোকন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস, সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা, কামাল হোসেন বিশ্বাস, চরতারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম দায়েন, সাপ্তাহিক পল্লীগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রবীন সাংবাদিক আব্দুস শুকুর, সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী, সাতবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চু, এন এ কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বিআরডিবির চেয়ারম্যান একিউএম শামছুজ্জোহা বুলবুল, উলাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন, সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনসুর আলী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরিত কুমার কুন্ডু, সুজানগর কাঁচারীপাড়া ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সুজানগর প্রেসক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ, পৌর যুবলীগের সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ শোক জ্ঞাপন করার পাশাপাশি তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!