জীবনের আদর্শ, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য যে ভাবে অর্জিত হয়

জীবনের আদর্শ, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য যে ভাবে অর্জিত হয়

শ্রেণী-কক্ষে শিক্ষকবৃন্দের উপদেশ সহ পাঠদান, বিভিন্ন সভা-সমিতি, আলাপ-আলোচনা, জ্ঞানগর্ভ সাহিত্য, ইতিহাস ও ধর্মীয় পাঠ্য-পুস্তক প্রভূতির মাধ্যমে জানতে পারি যে, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জিত হয় তাঁর সৃষ্ট মাখলুকের প্রতি সদয় ব্যবহার, তাদের সেবা ও কল্যাণ করার মাধ্যমে। আর আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিই হচ্ছে মানুষের ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তি ও সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই আমি প্রতিনিয়ত সাধ্যমত একাজ গুলো করে যেতাম।


এ কাজগুলোর মান উন্নয়নের জন্য উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করতাম তাই সুযোগ পেয়েই বৃদ্ধ বয়সে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে M.S.S (Evening) in Social Work, Session: 2017-2018 (January-June`2017) এ ভর্তি হই। আর মালিকের মেহেরবাণীতে সমাজকর্ম, ব্যাক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম, সমষ্টি সংগঠন ও সমষ্টি উন্নয়ন, সামাজিক গবেষণা, সামাজিক উন্নয়ন, সমাজ কল্যাণ, সমাজ সেবা, প্রশাসন, দেশীয় ও আন্তজাতিক সমাজকর্ম সহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে বেশ সুনামের সাথেই ৭২ বছর বয়সে M.S.S ডিগ্রী অর্জন করি। এই সমস্ত অর্জিত জ্ঞান দ্বারা দেশ, জাতি ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে সার্বিক কল্যাণ সাধনে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমার। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধদের সমস্যার সমাধান ও নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য লোকদের একাজে অংশ গ্রহণে আগ্রহী করে তুলতে নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি।


বর্তমান সময়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে মানুষ ব্যাপক ভাবে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে রাজক্ষমতা দখল করে নিজেদের শক্তি, ক্ষমতা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জনে চরম প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। একাজে তারা রক্ত পিপাশুদের ভূমিকায় অবতীর্ণ। যা বিশ্বের টেকসই উন্নয়নের জন্য চরম প্রতিবন্ধক এবং বিশ্বের স্থিতি ও শান্তির প্রতি তেমনি হুমকি। এহেনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বর্তমান মানব সভ্যতা ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে উপনীত। কাজেই এ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে বিশ্বের জ্ঞানী-গুণী, হৃদয়বান, যোগ্য ও বিজ্ঞজনদের উদ্দ্যোগ গ্রহণের একান্ত প্রয়োজন।


সমস্যাগুলো অনেক বড় ও অনেক জটিল। কাজেই এত বড় ও এত জটিল সমস্যা সমাধানে অংশগ্রহন করার সুযোগ আমাদের মত তুচ্ছ মানুষদের নাই। কিন্তু চরম দুর্দশাগ্রস্থ অসহায় এ মানুষদের চিৎকার, আহাজারী এই তুচ্ছ মানুষদের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। তাই নির্যাতিত এই মানুষদের নির্যাতন বন্ধ ও কল্যাণ কামনায় অস্থির চিত্ত তুচ্ছ এই মানুষগুলোর ব্যাকুল হয়ে জ্ঞানী-গুণী, হৃদয়বান, যোগ্য ও বিজ্ঞজনদের মনোযোগ আকর্ষনের জন্যই এই আহাজারী ও আছারী বিছারী। যদিও এটা দৃষ্টিকটু ও বেমানান।


এ যেন ইঁদুরের সিংহরাজের সাহায্য করার মতই হাস্যকর। কিন্তু যদিও হাস্যকর তবুও পরবর্তীতে দেখা যায় এটাও সম্ভব হয় সময় বিশেষে।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!