ঈদকে সামনে রেখে সুজানগরে কদর বেড়েছে তেঁতুল গাছের খাটিয়ার

ঈদকে সামনে রেখে সুজানগরে কদর বেড়েছে তেঁতুল গাছের খাটিয়ার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুজানগরে কদর বেড়েছে খাটিয়ার। তেঁতুল গাছের তৈরি এ খাটিয়া ভালো দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও স্বাচছন্দে কিনে নিচ্ছেন।

জানাগেছে, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল আজহা আসলেই কদর বাড়ে খাটিয়ার। ঈদুল আজহার বাকী আর মাত্র ২ দিন। ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি করার পরে মাংশ ছাটাই (টুকরা) করার জন্য প্রয়োজন হয় খাটিয়ার। যাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাংশ ভালোভাবে ছাটাই করা যায়। সব গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করা যায় না। খাটিয়া তৈরি করতে প্রয়োজন তেঁতুল গাছের। তেতুঁল গাছ ছাড়া অন্য গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করলে মাংশের সাথে গাছের গুড়ি উঠে মাংশের মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই ঈদুল আজহা আসলেই তেঁতুল গাছের চাহিদা বেড়ে যায়।

কাঠ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে তেতুঁল গাছ সংগ্রহ করে স্ব-মিলে খন্ড খন্ড করে খাটিয়া তৈরি করে। ব্যবসায়ীরা এক সিএফটি গাছ ৩ ’শ টাকায় ক্রয় করে। এক সিএফটি গাছে ৩/৪ টি খাটিয়া তৈরি করা যায়। ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের খাটিয়া রয়েছে। একটি ছোট খাটিয়া ১’শ ৫০ টাকা থেকে ২’শ টাকা, মাঝারি ২’শ ৫০ থেকে ৩’শ টাকা এবং বড় ধরনের খাটিয়া ৪’শ থেকে ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কাঠ ব্যবসায়ীরা ভালোই লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে কাঠ ব্যবসায়ী ও স্ব-মিলের শ্রমিকরা এ কাটিয়া তৈরি ও বিক্রি করে থাকেন। তবে তেঁতুল গাছ পাওয়া বড়ই দুস্কর বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সুজানগর পৌর শহরের পৌর কার্যালয়ের সামনে সহ বিভিন্ন স্থানে এ খাটিয়া বিক্রি হয়।

পৌর এলাকার ফিরোজ রানা বলেন, বর্তমানে খাটিয়ার চাহিদা অনেক। বেশী চাহিদা থাকায় দামও একটু বেশী। মাঝারি ধরনের চারটি খাটিয়া ৯০০ টাকার ক্রয় করেছি।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন, একটি তেতুঁল গাছের খাটিয়া ৩’শ টাকায় ক্রয় করেছি। দাম একটু বেশী হলেও চাহিতা মত পেয়েছি।

খাটিয়া ব্যবসায়ী শহিদ হোসেন বলেন, কোরবানি এলেই খাটিয়ার কদর ও চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর এ খাটিয়ার তেমন চাহিদা থাকে না। কোরবানি উপলক্ষে তেঁতুল গাছের ৬০ টি খাটিয়া তৈরি করেছি। ইতোমধ্যে ২০ টি খাটিয়া বিক্রি হয়েছে। প্রকার ভেদে প্রত্যেক খাটিয়া ১’শ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫’শ টাকায় বিক্রি করছি। আশাকরি ভালোই লাভবান হওয়া যাবে।

স্ব-মিল শ্রমিক মনসুর আলী বলেন, এক সিএফটি তেঁতুল গাছ কিনতে লাগে ৩’শ টাকা। ওই এক সিএফটি গাছে চারটি খাটিয়া হয়। চারটি খাটিয়া কম হলেও ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা বিক্রি করা যায়। এতে ভালোই লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু কোরবানি শেষ হয়ে গেলে এ খাটিয়ার আর কদর থাকে না। সারা বছরে দু’চারটি বিক্রি হলেও পারে আর না হলেও পারে। তারা আরো বলেন, তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না।

সুজানগরের কশাই গোলাম রব্বানী বলেন, মাংশ ছাটাইয়ের (টুকরা) জন্য খাটিয়ার ব্যবহার দীর্ঘ দিনের। খাটিয়া ছাড়া ভালোভাবে মাংশ ছাটাই করা যায় না। তিনি আরো বলেন, সব গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি হয় না। মাংশটা ভালোভাবে ছাটাই করার জন্য প্রয়োজন তেঁতুল গাছের খাটিয়ার। অন্য গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করলে মাংশের সাথে খাটিয়ার গুড়ি উঠে আসে। এতে ওই গাছের গুড়ি মাংশের সাথে লেগে মাংশের মান নষ্ট হয়ে যায়। আর তেঁতুল গাছের খাটিয়ার মাংশ ছাটাইয়ে কোন গাছের গুড়ি উঠে না। এতে মাংশ ভালো থাকে। তাই তেঁতুল গাছের খাটিয়ার কদর বেশী।

error: অতি চালাকের গলায় দড়ি !!